আনসার সদস্যদের রেশন কম দিয়ে বাইরে বিক্রি

ষ্টাফ রিপোটার

নারায়ণগঞ্জে প্রতি মাসে আনসার সদস্যদের রেশন (চাউল-গম) কম দিয়ে বাহিরে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বাণিজ্যে আনসার সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলেও দেখার নেই কেউ। আনসার সদস্যরা যুগান্তরকে জানান, নারায়ণগঞ্জে সরকারি রেশন ভোগি ৩২শ আনসার সদস্য রয়েছে। প্রতি মাসে একেকজন আনসার সদস্য ২৮ কেজি চাউল ও ২৮ কেজি গম পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের ২ থেকে ৩ কেজি করে কম দেয়া হয়। আর রেখে দেয়া রেশন সিএসডি গোডাউন থেকে ট্রাক যোগে ফতুল্লার পাগলায় নিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি করে দেন জেলা আনসার ও ভিডিপির সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট এসএম আনিসুর রহমান। ৮ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লার পাগলা এলাকায় বরিশাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি দোকানে ৯৫ বস্তা চাউল ও ৮২ বস্তা গম বিক্রি করা হয়েছে। এ নিয়ে আনসার সদস্যদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠলে বিষয়টি সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে আসলে ১২ এপ্রিল সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট এসএম আনিসুর রহমানকে ২৭ আনসার ব্যাটালিয়ান লালমনিরহাটে বদলি করা হয়।

আনসার সদস্যরা জানান, সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট এসএম আনিসুর রহমানকে বদলিতেই সমস্যা সমাধান হয়নি। সরকারি রেশন বাহিরে বিক্রির কোন নিয়ম নেই বা ক্রয় বিক্রয়েরও কোন অনুমতি নেই। সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট এসএম আনিসুর রহমান একা সরকারি রেশন বিক্রি করেনি তার সঙ্গে জেলার আরো শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছে। এ বিষয়ে সদর সপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান নারায়ণগঞ্জের আনসার সদস্যরা।

আনসার সদস্যদের অভিযোগ শুধু রেশনেই কম নয় বদলিতেও বাণিজ্য করেন সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট এসএম আনিসুর রহমান, বন্দরের টিআই ওমর ফারুক। ভালো ক্যাম্পে বদলি হতে হলে অন্তত ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। যাদের টাকা নেই তারা বছরের পর বছর অবহেলায় দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট এসএম আনিসুর রহমান যুগান্তরকে জানান, আমি কোন সদস্যর রেশন কম দেইনি। আমাদের অফিসের ৩২ জন স্টাফ আছে তারা কেউ রেশন না নিলে সেই রেশন আমার কাছে বিক্রি করে দেয়। আমি রেশনগুলো সিএসডি গোডাউনে রেখে দেই এবং ৬/৭ মাস পর এক সঙ্গে বাইরে বিক্রি করি। ৮ ফেব্রুয়ারিও ফতুল্লার পাগলায় সেই রেশন বিক্রি করেছি। জনস্বার্থে আমার বদলি হয়েছে। বন্দরের টিআই ওরম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, আমি কোন বদলি বাণিজ্য করি না। যদি কেউ অভিযোগ করে থাকে তাহলে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। রেশন বিক্রির বিষয়টি আমি ও আমার জেলা কমান্ট্যান্ট কিছুই জানি না। তবে রেশন ক্রয় বিক্রয় করার নিয়ম নেই। যদি কেউ করে থাকে তাহলে সেটা অবৈধ।