আর কত অভিযোগ পেলে বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন

পাগলা বাজার এলাকার বিভিন্ন দোকানপাট ও যানজট নিরসনের নামে ট্রাক থেকে মাসিক ও প্রতিদিন অনৈতিক ভাবে অবৈধ পন্থায় প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে জোর পূর্বক চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বাচ্চুর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় পাগলা বাজার এলাকার বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তিভোগীরা জানায়, পাগলা বাজার বহুমূমী সমিতির সাধারন সম্পাদক বাচ্চু দীর্ঘদিন ধরে অত্র এলাকার বাজার ও আশপাশ এলাকায় জোর পূর্বক চাঁদা উত্তোলন করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাচ্ছে।আমরা ব্যবসা করলে তাকে চাঁদা দিতে হবে গাড়ী চালাতে হলে তাকে চাদাঁ দিতে হবে।

অসংখ্য হাকারদের কাছ থেকে দোকান ভেদে দৈনিক ২০, ৩০ ও ৫০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করছে তিনি।
এ চাঁদাবাজীর বিষয় নিয়ে ২০১৯ সালে (১৮ফেব্রুয়ারী) সোমবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত ভাবে একটি অভিযোগ দায়ের করেন পাগলা এলাকার ফতুল্লা থানা ক্ষুদ্র দোকান হকার শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ ঢাকা-৩৭৮১) এর সভাপতি নুর মোহাম্মদ।

অভিযোগে পাগলা বাজার বহুমুখি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বাচ্চুসহ তার গ্রুপের সহযোগি মোঃ বারেক (৪৫) মোঃ মনির (৩৩) ও মোঃ রুবেল (২৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে।


অভিযোগের কিছু দিন আগে একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানীর সিইও সহ তিন সহদোরকে চাঁদার দাবীতে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন বাচ্চু ও তার সহযোগিরা। এই ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে পলাতক ছিলেন বাচ্চু।
এখানেই ক্ষান্ত ছিলেননা তিনি ২০২০ সালে শনিবার (১৬ মে) ত্রাণের নামে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে বিপাকেও পড়েছিলে বাচ্চু।সে সময় কাচামাল ব্যবসায়ী শাহজাহান ৮ বস্তা চাল ,কনফেশনারী ব্যবসায়ী হাসান ২ বস্তা চাল, কামার এর দোকানের কামাল ৩ বস্তা চাল, কাপড় ব্যবসায়ী দ্বীন ইসলাম ২ বস্তা চাল তুলে দেন । প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে অসহায় হয়ে পড়া মানুষদের সাহায্যের জন্য ত্রাণের কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ ও চাল সংগ্রহ করলেও তা আত্মসাৎ করেছেন।
এ ঘটনায় বাজার সমিতির উপদেষ্টা তাজুল ইসলাম তাজুর অফিসে শালিস হয়। সেখানে বাচ্চুকে শাসানো হয়। এসময় তিনি সবার সামনে কানে ধরে ক্ষমা চেয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনা জানাজানি হলে বাজারের ব্যাবসায়ীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
এখানেই শেষ নয় পাগলা – জালকুড়ি সড়কে চলাচলরত ট্রাক- কভার ভ্যান থেকে স্টিকারের মাধ্যমে মাসোহারা ভিত্তিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে, সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বিভিন্ন ট্রাকে লাগানো স্টিকারে লেখা রয়েছে কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নির্দেশে এবং বাস্তবায়নে পাগলা বজার বহুমুখী সমবায় সমিতির নাম। এ বিষয়ে রাস্তায় চলাচলকারী ট্রাক- কভার ভ্যান চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায় দিনের বেলায় ঢাকা যাত্রাবাড়ী দিয়ে ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য তারা দিনের বেলায় সবসময় এই রাস্তাটি ব্যাবহার করে পাগলা দিয়ে প্রবেশ করে জালকুড়ি দিয়ে বের হয়ে বিভিন্ন জেলায় চলে যায় তারা ।তবে প্রতিনিয়ত যানজটে পরতে হতো তাদেরকে। তাই যানজট নিরসনে প্রায় ৭-৮ মাস পুর্বে হঠাৎ করে পাগলা বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতৃত্বে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
পরবর্তীতে তাদেরকে নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয় সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত পাগলা অথবা জালকুড়ি দিয়ে কোন ট্রাক প্রবেশ করতে পারবে না।আর যদি চলাচল করতে হয় তাহেল পাগলা বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতির স্টিকার ব্যবহার করতে হবে। আর সেই স্টিকার ব্যবহারে তাদেরকে প্রথমে ১২০০ টাকা দিয়ে তা কিনতে হবে এবং মাসে ১০০০ টাকা করে প্রদান করতে হবে।অন্যথায় এ রাস্তা দিয়ে ভারী যান চলাচল করতে পারবেনা বলে তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়।নির্ভরযোগ্য একাধিক তথ্য মতে,দুই থেকে আড়াইশত গাড়ীতে এই স্টিকার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।চাঁদা আদায়কারী হিসেবে উঠে আসে পাগলা বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতির বহুল সমালোচিত বিতর্কিত সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বাচ্চুর নাম।
এই বিষয়ে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চুর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন ভাই দোয়া করবেন রমজান মাস গোনাহ মাফের মাস আল্লাহ যেন সৎ পথে চলার তৌফিক দান করেন আর এই ব্যাপারে পরে কথা বলব আর চেয়ারম্যান হল আহ্বায়ক উনার সাথে কথা বলেন।