ফতুল্লায় শ্রমিকদের মধ্যে সন্ত্রাসী আতংক

ফতুল্লার কুতুবপুর নয়ামাটি এলাকায় অবস্থিত ইউরোটেক্স নীট ওয়্যার গার্মেন্টের চলন্ত বাসে শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলায় আতংক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মরত ওই কারখানা সহ আশপাশে একাধীক কলকারখানার শ্রমিকরা সন্ত্রাসী রাসেল বাহিনীর আতংকে ভোগছেন। শ্রমিকরা জানান, সন্ত্রাসী রাসেল মাদকাসক্ত। পকেটে সবসময় ছুরি নিয়ে চলা ফেরা করেন। যার তার সাথে হুমকি ধমকি ও গাল দিয়ে কথা বলেন। দেখলেই ভয় লাগে। শ্রমিকরা বেতন পেলে রাস্তায় আটকিয়ে চাহিদা মত টাকা হাতিয়ে নেয়। কেউ প্রতিবাদ করলে ছুরির ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে পুরো টাকা লুটে নেয়। এরমধ্যে মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকবাহী বাসে রাসেল ও তার বাহিনী হামলা চালিয়ে নারীসহ ৫জন শ্রমিককে এলোপাথারী পিটিয়ে আহত করেছে। শ্রমিকরা আরো জানান, কুতুবপুর নয়ামাটি এলাকায় সুধু একটি গার্মেন্ট নয় এখানে একাধীক কলকারখানা আছে। এসব কারখানায় যারা কর্মরত রয়েছে তারা অধিকাংশই বিভিন্ন জেলার। এসব শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবার রয়েছে। তাদের আয় রোজগারের উপর নির্ভর করে পরিবার। সন্ত্রাসীদের উৎপাতের কথা শুনলে গ্রামের বাড়িতে তাদের পরিবারের সদস্যরাও আতংকের মধ্যে দিন কাটায়। তাই শ্রমিকদের দাবী রাসেল ও তার বাহিনীর প্রত্যেককে গ্রেফতার করে কারাবন্দি রাখা হউক। কুতুবপুর নয়ামাটি এলাকাবাসী জানান, আব্দুর রহমান রাসেল (২৯) নয়ামাটি এলাকার আম্বর আলীর ছেলে। মাদকাসক্তের কারনে তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। এলাকায় একমাত্র উশৃঙ্খল ছেলে সে। কোন ময়মুব্বি মানেনা। হাতে সিগারেট নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন। স্থানীয় লোকজনও তাকে দেখলে ভয় পায়। তার বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। আদালতসুত্র জানান, শ্রমিকদের উপর হামলার মামলায় জামিন যোগ্য ধারা থাকায় রাসেলকে জামিন দিয়েছে আদালত। বুধবার বিকেলে সে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেলে রাসেলকে আবারো গ্রেফতার করা হবে। তার সহযোগিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখে পুলিশ তৎপর রয়েছে।