হেফাজতের ভাঙচুর মামলায় মামুনুল সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে-জায়েদুল আলম

 রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবার উচ্চাভিলাশ ছিলো হেফাজত নেতা মামুনুলদের। এ কারণেই সরকার পতনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন হেফাজত ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক ও কয়েকজন।

১৮ দিনের রিমাণ্ডে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এমনটাই প্রতিয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছেন বলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম।

তিনি বলেন, দীর্ঘ এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নানা ইস্যুতেই মাঠ গরম করার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। এ কাজে তিনি তার সংগঠন হেফাজত ইসলামকেও কাজে লাগানোর চেষ্টায় ছিলেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, ১৮ দিনের রিমাণ্ডে অনেক ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিচারাধীন বিষয়ে আগাম কিছু বলা ঠিক হবে না। সবগুলো তথ্যই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরপর হয়তো গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো যাবে।

রোববার (৬ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান জেলা পুলিশের এই শীর্ষ কর্তা। তিনি জানান, রিমাণ্ডে পাওয়া সব তথ্য আইনগত প্রক্রিয়ায় আদালতে উপস্থাপন করার হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, জান্নাত আরা ঝর্ণার মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ধর্ষণ মামলায় সত্যতা পেয়েছি। সেইসাথে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পেয়েছি। বিচারাধীন বিষয় বলে এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। আশা করি বাদীনি সুবিচার পাবে। এজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। কারণ মামুনুল হক ঝর্ণাকে বিয়ে করেছেন এমন কোন প্রমাণই দিতে পারেননি।

সোনারগাঁয় ভাঙচুরের মামলা, হেফাজতের জঙ্গি কানেকশন ও সম্পত্তি সর্ম্পকেও পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে দাবি করে পুলিশ সুপার বলেন, মামুনুল হকের দেয়া সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

হেফাজতের ভাঙচুর মামলায় মামুনুল হকের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, তাঁর উস্কানীমূলক বক্তব্যে ভাঙচুর হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মামুনুল হক। এই ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। এগুলো পরে জানানো হবে।

হেফাজত ইসলামে মাদ্রাসা ও সংগঠনের নামে দেশ-বিদেশ থেকে আসা প্রচুর টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

গত ১৮ মে কাশিমপুর কারাগার থেকে ৬টি মামলায় ১৮ দিনের রিমাণ্ডের জন্য মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জে আনা হয়। ৬টি মামলার মধ্যে ৫টি নাশকতা ও ভাঙচুর ও একটি ধর্ষণ মামলা। রিমা- শেষে শনিবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নেতা সোনারগাঁয় রয়েল রির্সোটে নারীকাণ্ডের পরে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে পড়েন মামুনুল হক। পরে মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও পুলিশ।