শীর্ষ সন্ত্রাসী মীরু শেল্টারে কুতুবপুরে রবিন জলিলের জমজমাট মাদক ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুতুবপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরুর শেল্টারে জমজমাট মাদকে হাট বসিয়েছেন মীরু অন্যতম সহযোগি কথিত যুবলীগ নেতা রবিন । হাত বাড়ালেই মাদকের দেখা মিলছে ফতুল্লার কুতুবপুরের রসুলপুরে। পুরো ইউনিয়নই মাদক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও রসুলপুর যেন পরিণত হয়েছে মাদকের স্বর্গরাজ্যে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে চিহ্নিত মাদক কারবারি রবিন ও জলিল। 
একাধিক সূত্রমতে, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ রবিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ২০ জনেরও বেশি সেলছম্যান বা খুচরা মাদক বিক্রেতা। এদের মাধ্যমে রবিন রসুলপুরের ১০টিরও বেশি স্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল বিক্রি করে৷ দেশের বিভিন্ন স্থান  থেকে মাদকের বড় চালান নিয়ে আসে  রবিনে৷ রবিন নিজেও একজন মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে৷ প্রতিদিন তার নেশা মেটাতে পাঁচ থেকে ছয়টি ইয়াবার প্রয়োজন হয়। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র মতে, রবিন স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়েরও মূল হোতা৷ তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ২০-২৫ জনের কিশোর গ্যাং রসুলপুরে মাদক বিক্রির পাশাপাশি ছিনতাই, চুরি, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এরা প্রায়ই অন্য গ্রুপের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসব কিশোরদের প্রত্যেকের হাতেই রয়েছে চাপাতি, রামদা, গিয়ার, ছুরি, ছ্যানসহ নানান ধারালো অস্ত্র। এসব ভয়ঙ্কর অস্ত্র নিয়ে প্রায়ই এরা এলাকায় মহড়া দিয়ে থাকে রবিনের নির্দেশে। 
বিশ্বস্ত সূত্রমতে, রবিন সরকারদলীয়  স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের প্রভাবশালী নেতার লোক হিসেবে পরিচিত৷ প্রায় সময় ঐ নেতার পাশেই তাকে ন্ দেখা যায়৷ সরকারদলরয় ঐ নেতার মিছিল সমাবেশেও কিশোর গ্যাং নিয়ে উপস্থিত হয় রবিন। এমনকি  নিজের ছবি সহকারে ঐ নেতার ছবি দিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন করে কুতুবপুরের বিভিন্ন স্থানে সাটিয়েছে রবিন। জানা যায়, রবিন নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে দাবি করলেও দলে তার কোনো পদ-পদবী নেই। 
অন্যদিকে রসুলপুরের আরেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জলিলও নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। একসময় রসুলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্পটে দাঁড়িয়ে মাদক বিক্রি করলেও এখন কৌশল অবলম্বন করছে সে। স্কুল সংলগ্ন পরিত্যাক্ত জমিতে গাছপালার আড়ালে ইয়াবা ও গাঁজার কারবার চলছে জলিলের। জলিল নিজেও কয়েক দশক ধরে মাদকাসক্ত। তার মাদক ব্যবসায় তারই পরিবারের একজন সদস্য তাকে সহযোগিতা করেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। 
এলাকাবাসী জানায়, অবাধে মাদক ব্যবসায় এলাকার পরিবেশ ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। মাদক কারবারিদের অত্যাচারে সন্ধ্যার পর তো বটেই, দিনেও রাস্তা দিয়ে হাঁটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক শেল্টার থাকায় প্রশাসনও নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে স্থানীয়দের  অভিযোগ।