রক্ত কত গরম আমি সেটা জানি : শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে নিষিদ্ধ করেছিলাম। এই অপরাধে আমাদের অফিসে বোম ব্লাস্ট করা হলো। আমাদের উপর আরডিএস মারা হলো। আর কোথাও আরডিএস মারা হয় নাই। চন্দনের পা উড়ে গেল। আমার ২০টা ছেলে মুহূর্তে নাই হইয়া গেল। রক্তের ওপর শুয়েছিলাম। রক্ত কত গরম আমি সেটা জানি।

শনিবার বিকেলে চাষাড়া রাইফেলস ক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শততম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, বোমা ব্লাস্টেও পর আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। কানে কিছু শুনছিলাম না। সাংবাদিকেরা আমায় বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন ‘কিছু বলবেন’। আমি বারবার বলছিলাম, শেখ হাসিনাকে বাঁচান। আমি মরে গেলে এই দেশের খুব ক্ষতি কিছু একটা হবে না। হয়তো বউ বাচ্চারা একটু কাঁদবে। আপনারা যারা ভালোবাসেন তারা কয়েকদিন মনে রাখবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার কিছু হলে দেশ পিছিয়ে যেত। তিনি দেশ এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

তিনি আরও বলেন, ‘গত তিনদিন আগেও আমি ডিসি ও এসপি সাহেবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছিলাম চক্রান্ত হচ্ছে। পরাজিত শক্তি আবারও কিছু ঘটানোর পায়তারা করছেন। আমার বার্তা পাঠানোর তিনদিন পর প্রধানমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য রেখেছেন। প্রশাসনও এখন খুব এলার্ট।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। কেউ এখন আমাদের অবেহেলা করে না। আমাদের মায়েরা সন্তানদের এমনভাবে মানুষ করেছেন দেখেই বাংলাদেশ আজকে গর্ব করে বলতে পারে পৃথিবীকে, সারা পৃথিবী দেখতে থাকো আমরা কারো পায়ের ওপর ভর করে দাঁড়াই নাই, বাংলাদেশ নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আমরা কারো কাছে মাথা নত করবো না।

পুরস্কার বিতরণীতে রাইফেল ক্লাবের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, রাইফেল ক্লাবের সেক্রেটারী খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল প্রমুখ।