নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার আইসিইউ ইউনিট চালু হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার দীর্ঘ আড়াই মাস পর নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট করোনা হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান অদূর ভবিষ্যতে এই আইসিইউ ইউনিটকে ৫০ শয্যায় এবং পুরো হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতসহ মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথা জানান। পাশাপাশি হাসাপাতালে ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে নানা ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশনাও দেন।

সেলিম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা খানপুর হাসপাতালে টেন্ডার আর চিকিৎসা সেবা নিয়ে যে পরিমাণ চুরি হয়েছে, তা আমি আমার জন্মে আর কখনও দেখিনি। এখানে একটি চক্র নিজেদের অমুক তমুকের পিএ পরিচয়ের সুযোগে কোটিপতি হয়েছেন। হাসপাতালের সব দায়িত্ব আমার ওপর থাকার পরেও আমি এদের কাছে অসহায়। কখন টেন্ডার হলো, কারা টেন্ডার পেলো, কোনকিছু সম্পর্কেই আমি অবগত নই। পরে ফাইলপত্র ঘেটে দেখলাম শুধু চুরি নয়, পুকুর চুরি হয়েছে। আমি ঘোষণা দিচ্ছি দ্রুততম সময়ে অডিট রিপোর্ট করে এদের দুদকের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

পরে তিনি জেলা প্রশাসককে আইসিইউ ইউনিটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায়, আবাসিক চিকিৎসক শামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয়, জেলা করোনা ফোকাল পার্সন ডা. জাহিদুল ইসলাম এবং সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকুসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন বলেন, আইসিইউ সেবা শুধু চালু করলেই হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি। কোনও একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা যদি কোনও গুরুত্বপূর্ণ সার্কিট খুলে রেখে বলে আইসিইউ নষ্ট তাহলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন না নারায়ণগঞ্জের মানুষ। তবে আমরা আশা করবো, নারায়ণগঞ্জে কোনও হৃদরোগীকে আর ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এই খানপুর হাসপাতালেই সর্বোচ্চ সেবা পেয়ে যাবেন তারা।

এরআগে, নারায়ণগঞ্জ জেলাকে করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৩০০ শয্যার এই হাসপাতালটিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ পিসিআর ল্যাবের জন্য প্রস্তুত করা হয়। ১০ এপ্রিল এই হাসপাতালে শহরের একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন সেন্টার এবং ৬ মে পিসিআর ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়।