করোনার সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ৩১ দফার একটি অসাধারণ প্রজ্ঞাপন জারি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গত ০৩ এপ্রিল ২০২০ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) জনিত সংকটে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ৩১ দফার একটি অসাধারণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়৷ জীবন ও জীবিকাকে রক্ষা করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের চমৎকার দিকনির্দেশনা এই ৩১ দফায় রয়েছে৷ ঢাকা শহর সহ বড় বড় শহর, জেলা, উপজেলা ও গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের করোনা সংকটে করণীয় সমন্বিত কর্ম-পরিকল্পনা এতে রয়েছে৷ এই ৩১ দফার নির্দেশনা অনুকরণ করলে করোনা সংক্রমণ প্রশমিত হবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত৷

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দেশে বিদেশে বাঙালি জনগণের মনে অনেক ধরণের আবেগ অনুভূতি কাজ করে৷ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ স্বস্ব অবস্থান থেকে করোনা পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে আলাদা আলাদা পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছেন৷ জনকল্যানে বাংলাদেশ সরকার কিছু কিছু পরামর্শ গ্রহণও করতে দেখা গেছে৷ এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের জীবন ও জীবিকার কথা চিন্তায় রেখে তাদের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে স্বচ্ছ ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন৷ লক্ষ্য অর্জনের পথ কখনো কুসুমাস্তীর্ণ হয় না৷ অন্যের কাঁধে দায়িত্ব চাপিয়ে তিনি কিন্তু কখনো বসে থাকেন না৷ বরং তিনি দেশের যে কোন বিপদের সময় সকল দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে অফুরন্ত শক্তি ও মনোবল নিয়ে এগিয়ে যান৷ ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস, সাহস ও পরিশ্রম তাঁর প্রতিটি কাজে সাফল্য এনে দিচ্ছে৷

এখানে আশার কথা হলো যে গত দুই সপ্তাহ যাবত করোনা সংক্রমণের উর্ধমুখী ধারা কমেছে৷ সংক্রমণের কার্ভটি ফ্ল্যাট রয়েছে৷ নিয়ম অনুযায়ী চার সপ্তাহ যদি করোনা কার্ভ ফ্ল্যাট থাকে তা হলে পঞ্চম সপ্তাহ থেকে সেটি ডিক্লাইন হবে অর্থাৎ করোনা সংক্রমণ কমতে থাকবে৷ তার মানে কোরবানি ঈদের পর দেশের মানুষ করোনা সংক্রমণ কমার  সুসংবাদ পাবে বলে আমার ধারণা৷ তবে কোরবানির হাট ও ঈদের তিন দিনের ছুটিতে গণ যাতায়াত ও ঈদের জামাত নিয়ে একটি বিরাট ভয় কিন্তু থেকেই যাচ্ছে৷ এখানে উল্লেখ্য যে কারিগরি পরামর্শক কমিটি পবিত্র ঈদ উল আজহার ছুটিকালীন কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্ট্রগ্রাম থেকে অন্যান্য জেলায় মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন৷ এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট অনুরোধ পত্র প্রেরণ করেছেন৷

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতে চাই৷ বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগী শনাক্তের জন্য শুধুমাত্র আরটি পিসিআর মেশিনে পরীক্ষা করা হয়৷ আরটি পিসিআর সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ শনাক্তের জন্য গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয়৷ বাংলাদেশে ৮০ টি সেন্টারে আরটি পিসিআর দিয়ে কোভিড-১৯ শনাক্ত করা হচ্ছে৷ আরটি পিসিআরের সাথে সাথে বিশ্বের অন্যান্য দেশে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টও করোনা রোগী শনাক্তের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে৷ র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে মাত্র ১৫-৩০ মিনিটে রেজাল্ট দেওয়া যায়৷ বাংলাদেশে করোনা উপসর্গ বিহীন প্রচুর মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে আবার সুস্থও হয়েছে৷ সাধারণত ধরে নেওয়া হয় যে একটি দেশে পরীক্ষার মাধ্যমে পসিটিভ যা পাওয়া যায় তার দশগুন বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে৷ তার মানে হলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ বুলেটিন অনুযায়ী যদি দুই লক্ষ শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগী থাকে তাহলে বাংলাদেশে সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা হবে ২০ লক্ষ৷ 

দেশে কত শতাংশ রোগী উপসর্গ সহ অথবা উপসর্গ বিহীন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন তার জন্য এন্টিবডি টেস্ট না করলে কখনোই বুঝা যাবে না৷ তাছাড়া সুস্থ করোনা রোগীর রক্ত থেকে প্লাসমা নিয়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় প্লাসমাতে আইজিজি এন্টিবডির প্রয়োজন৷ করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া অনেক রোগীর দেহে আইজিজি খুব একটা তৈরী নাও হতে পারে৷ কাজেই এন্টিবডি টেস্ট করে আইজিজি এন্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয় না করে শুধু প্লাসমা থেরাপি দিয়ে লাভ হবে না৷

উল্লেখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সংক্রমণ বা পূর্বের সংক্রমণ শনাক্তের জন্য রক্তের আইজিএম ও আইজিজি এর উপস্থিতি নির্ণয় জরুরী৷ যাকে বলা হয় সেরোসার্ভিলেন্স৷ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছেন৷ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট ও এন্টিবডি টেস্ট কিট এর আমদানীর রেজিস্ট্রেশন ও এনওসি প্রদান করবেন৷ তবে আমার জানা মতে দুইটি টেস্ট কীটেরই ৮০-৯০% সেনসিটিভিটি থাকতে হবে৷ তাছাড়া ইউরোপের দেশসমূহ, আমেরিকা, জাপান, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়া এর মত অন্তত কোন একটি দেশে কিটগুলোর অনুমোদন ও ব্যবহার থাকতে হবে৷

অতিসত্তর বাংলাদেশে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট ও এন্টিবডি টেস্ট শুরু হবে বলে আশা রাখি৷ করোনা মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মানুষ প্রতীক্ষায় আছে৷ চেয়ে আছে জাতির পিতার গর্বিত কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে – কারণ তারা জানে মানুষের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বাংলাদেশকে বদলে দেয়ার শক্তি, ধৈর্য্য আর আকাঙ্খা একমাত্র তাঁর ভিতরেই আছে৷