রিমান্ড শুনানীতে আসামীদের পক্ষে আদালতে হট্টগোল

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের র‌্যালি বাগান এলাকায় মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য আরজু বেগম হত্যা মামলার আসামীদের রিমান্ড শুনানীতে তুমুল হট্টগোল হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কাউছার আলমের আদালতে ওই ঘটনা ঘটে। আরজু বেগম হত্যা মামলায় সহদোর ২ নারী আইনজীবীসহ এজাহারনামীয় মোট ৯ আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতের উপস্থাপন করে পুলিশ। শুনানী শেষে ম্যাজিস্ট্রেট ৯ আসামীর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জ্ ুকরলেও ২ নারী আইনজীবীকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে তাদের আইনজীবীরা হৈ চৈই হট্টগোল শুরু করে। এতে বিব্রত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস থেকে নেমে খাস কামরায় চলে যান। পরে আসামী পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক মোহসিন মিয়া ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় গিয়ে ওই ২ নারী আইনজীবীর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন। ম্যাজিস্ট্রেট তাদের পুনর্বিবেচনার জন্য পিটিশন দাখিল করতে বললে তারা সেটি দাখিল করলে ম্যাজিস্ট্রেট ২ নারী আইনজীবীকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন এবং বাকি ৭ আসামীর ৩ দিনের রিমান্ড বহাল রাখেন।
এদিকে রিমান্ড শুনানীকে কেন্দ্র করে যখন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামী পক্ষের আইনজীবীদের হৈ চৈই হট্টগোল চলছিল, তখন আদালতের বাইরে আরজু বেগম হত্যা মামলার আসামীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করছিল নিহতের পরিবারের সদস্য এবং র‌্যালি বাগান এলাকার বাসিন্দারা।
গত শুক্রবার বিকেলে র‌্যালি বাগান এলাকায় মাদক বিরোধী সভায় হামলা চালিয়ে মারধর করে কমিটির সহ সভাপতি আরজু বেগমের শরীরে পানি ঢেলে বৈদ্যুতিক তারের শক দিয়ে হত্যা করা হয় বলে নিহতের পরিবার ও মাদক নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নারায়ণগঞ্জ বারে কর্মরত অ্যাডভোকেট হামিদা খাতুন লিজা, তার ছোট বোন অ্যাডভোকেট আছমা আক্তারসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার অন্যরা হলেন, রমজান হোসেন, মনি বেগম, হালিমা বেগম, শহর বানু, সোনিয়া আক্তার, শফিকুর রহমান এবং শাহাবুদ্দিন।
ওই ঘটনায় নিহতের মেয়ের জামাতা সাদ্দাম হোসেন ঘটনার পরদিন শনিবার বাদি হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, যেহেতু মামলার আসামী অ্যাডভোকেট হামিদা খাতুন লিজা ও তার ছোট বোন শিক্ষানবিশ আইনজীবী আছমা আক্তার এ বারে কর্মরত তাই তারা এক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা পেতেই পারেন। আমরা তাদের পক্ষ থেকে সেই আবেদনই ম্যাজিস্ট্রেটকে করেছি।