কিশোর গ্যাংয়ের শেল্টার দাতা ছাত্রলীগ নেতা মান্নানের বাড়ীতে পুলিশের রেড

আওয়ার নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডট কম

ক্ষমতাসীনদলের লোকজনদের শেল্টারে কিশোর গ্যাংয়ের ক্যাডাররা বেপরোয়া হয়ে উঠাসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলে দীর্ঘদীন ধরেই অভিযোগ উঠে আসছে। উঠতি বয়সী কিশোর গ্যাং দলের সন্ত্রাসীরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে প্রতিপক্ষের উপর হামলাসহ চাঁদাবাজি এমনকি আধিপত্য নিয়ন্ত্রনে রাখার ক্ষেত্রে যে কোন ধরনের ঝুঁকি নিতেও পিছপা হচ্ছে না তারা। ক্ষমতাসীনদলের প্রত্যক্ষ শেল্টার থাকার কারনে একের পর এক অপকর্ম করে সহজে পার পেয়ে যাওয়ার কারনে নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হচ্ছে না কিশোর গ্যাং ক্যাডারদের কর্মকান্ড। তবে কিশোর গ্যাং ক্যাডারদের অব্যাহত গত কয়েকদিনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনায় টনক নড়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসনের। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার ক্ষেত্রে প্রতিটি এলাকার কিশোর গ্যাং ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা শুরু করে দিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। এ অভিযানের অংশ হিসেবে গত বুধবার রাতে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এম এ মান্নানের বাড়ীতে পুলিশের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা মান্নান বাড়ীতে না থাকায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। অভিযানের বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা মান্নান এবং আমান বাহিনীর লোকজনদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় গ্রæপের লিডাররা স্থানীয় উঠতি বয়সের কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করার মাধ্যমে এলাকায় আতংকের সৃষ্টি করে। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের ক্যাডাররা মুসলিমনগর নতুন বাজার এবং বিসিকের বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন অস্ত্র সজ্জে সজ্জিত হয়ে মহড়া প্রদান করে। মুহুর্তের মধ্যে এলাকাজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এম এ মান্নানের লোক হিসেবে পরিচিত মাসুদ নামের এক ব্যাক্তিকে বিসিক এলাকার স্থানীয় ক্যাডার হিসেবে পরিচিত আমান এবং জামান বাহিনীর লোকজন মারধর করে আটক করে রাখে। এমন সংবাদ মুহুর্তের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা মান্নান বাহিনীর লোকজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোর গ্যাং ক্যাডারদের সদস্যরা আমান বাহিনীসহ তার ক্যাডারদের ধাওয়া প্রদান করে এবং মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে আমান বাহিনীর ক্যাডারা সংঘবদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগ নেতা মান্নান বাহিনীর ক্যাডারদের ধাওয়া দিলে এলাকাজুড়ে মুহুর্তের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারন মানুষ দোকানপাট বন্ধ করে বিভিন্ন দিক ছুটাছুটি করতে থাকে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত কিশোর গ্যাংয়ের ক্যাডারা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিক চলে যায়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার রাতে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এম এ মান্নানের বাড়ীতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মান্নান বাড়ীতে ছিল না বলে পরিবার থেকে জানানো হয়।

অভিযানের বিষয়ে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এম এ মান্নান জানান, পুলিশ আসছিল তবে আমার বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। পুলিশ আমার খোঁজ করেছে এটা সত্য। আমি পুলিশের সাথে যোগযোগ করার পর থানায় দেখা করার জন্য আমাকে বলা হয়েছে। তবে তার কর্মী হিসেবে পরিচিত কিশোর গ্যাং ক্যাডারদের মহড়া বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন। এমনকি কি কারনে এবং কারা মহড়া প্রদান করেছে এ বিষয়েও তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরেই ছাত্রলীগ নেতা মান্নান এবং বিসিক এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আমান বাহিনীর ক্যাডাররা পৃথকভাবে মহড়া দেওয়ার মাধ্যমে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে আসছিল। এমন সংবাদ থানা পুলিশের কাছে আশামাত্র আমরা অভিযান পরিচালনা করি। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকসহ ফতুল্লার শান্তি বজায় রাখতে আমরা সর্বদাই হার্ড লাইনে ছিলাম এবং থাকবো। আর কিশোর গ্যাংদের যত প্রভাবশালী ব্যাক্তিই কিংবা নেতারা শেল্টার দিক না কেনো কোন ভাবেই তাদের ছাড় দেয়া হবে না। ইতিমধ্যে কিশোর গ্যাং ক্যাডারদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।