নারায়ণগঞ্জ বন্দরের জিসান হত্যা মামলার ষড়যন্ত্রের শিকার আহম্মদ আলী ও তার ছেলে

নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা ইস্পাহানি ঘাটে কিশোর গ্যাংদের সংক্রান্ত নিহত জিসান (১৭) এর মামলা ষড়যন্ত্রের শিকার বন্দরে নবীগঞ্জ বাগবাড়ি এলাকার আহাম্মদ আলী ও তার ছেলে কাশেম।
গত ১০ ই আগস্ট কিশোর গংদের দুই গ্রুপের হামলায় নিহত জিসান (১৭) এর মামলা ষড়যন্ত্র ভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন আহমদ আলী স্ত্রী ও কাসেমের মা জোহরা বেগম। তিনি বলেন ১০ই আগস্ট সারাদিন আমার স্বামী মাছ ব্যবসায়ী ও আরদারী (আহাম্মদ আলী) ও আমার ছেলে কাসেম বাসায় ছিল।
সন্ধ্যার পর আমার স্বামী (আহাম্মদ আলী) চা খাওয়ার বাসা থেকে বের হয়ে চায়ের দোকানে গেলে, লোকেদের মুখে শুনতে তার চাচাতো ভাই কাজিম উদ্দিনের ছেলে জিসান(১৭) কিশোর গংদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত হয়। এই কথা শুনে ভাতিজা (চাচাতো ভাই কাজিম উদ্দিনের ছেলে) জিসানের লাশ দেখার জন্য বন্দর ইস্পানী ঘাটে এলাকায় যায়। শীতলক্ষা নদী থেকে জিসানের লাশ খোজাখুজির পর লাশ উঠানো হলে।
আহাম্মদ আলী লাশ দেখার পরে তার চাচাতো ভাই কাজিম উদ্দিনকে সান্তনা দিলে গেলে কাজিম উদ্দিন তার ছেলে জিসান (১৭) হত্যাকারী বলে কাজিম উদ্দিন ও তার লোকজন আমার স্বামী আহাম্মদ আলীকে মারধর শুরু করে। আমার স্বামী আহাম্মদ আলীর মারধর এর কথা আমি আমার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লোক মারফত জানতে পেরে।
আমি আমার ছেলে কাসেম(২৬) কে ঘুম থেকে উঠিয়ে তার বাবার মারধরের কথা জানাই, এই কথা শুনে কাসেম তার বাবাকে বাঁচানোর জন্য ইস্পানী ঘাটে গেলে কাসেম তার চাচা কাজিম উদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করে আপনি আমার বাবাকে কেন মারছেন এই কথা শুনার পর কাজিম উদ্দিনের লোক জন্য আমার ছেলেকে মারধর করে, পুলিশের হাতে তার ছেলের খুনি বলে তুলে দেয়।
আহাম্মদ আলীর স্ত্রীর জোহরা বলেন আমার স্বামীর সাথে কাজিম উদ্দিনের বেশ কিছুদিন যাবত জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে ঝামেলা চলছিল আর এই নিয়ে আমাদের এলাকায় নবীগঞ্জ বাগবাড়ি বিচার হলে কাজিম উদ্দিনের বিপক্ষে রায় হয়। আর এই কারনে নিপরাধ আমার স্বামী ও আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি আমার ছেলে ও আমার স্বামীর মুক্তি চাই আসল খুনিদের না ধরে আমার ছেলে ও স্বামীকে প্রতিহিংসা কারনে ফাঁসানো হয়েছে। তাই আমার সরকারের কাছে আকুল আবেদন সুষ্ঠু তদন্ত করে আসল আসামীদের ধরে আমার স্বামী ছেলেকে মুক্তি দেওয়া হোক।

সূত্রে আরো জানা,যায় জিসান হত্যা মামলায় বন্দর ইস্পানী এলাকায় নিরহ লোকদের গ্রেফতারের কথা বলে ফাঁসানো হচ্ছে। তাই বন্দরে ইস্পানী এলাকায় অনেক নিরহ লোকজন আতংকে দিনযাপন করছে।
উল্লেখঃ এদিকে মিহাদ ও জিসান নদী থেকে উঠে গেছে এমনটি ভেবে স্থানীয় লোকজন তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি। তবে রাতে তারা বাড়িতে ফিরে না যাওয়ায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে জানতে পারে সংঘর্ষ ও ধাওয়ার ঘটনায় তারা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল।
এসময় তাদের খোঁজে শীতলক্ষ্যার তীরে বাড়তে শুরু করে জনসমাগম। রাত ১০টায় এলাকাবাসী সহযোগিতায় শীতলক্ষা নদী থেকে ওই দুইটি লাশ উদ্ধার করা হয়।