১০ বছরের শিশুর ধর্ষণে ২২ বছরের তরুণী অন্তঃসত্ত্বা!

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ বছরের শিশুর বিরুদ্ধে ২২ বছরের তরুণীকে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় এ ধর্ষণের ফলে ওই তরুণী ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, পারিবারিক জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ নানা ভয়ভীতি এবং নারী কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে তীর ছুড়েছেন নীলকমল ইউনিয়ন বাংলাবাজারের দারুল উলুম হামিউছুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় জামাতের ছাত্র মো. আল-আমিনের (১০) দিকে।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে- তাদের ছেলে মো. আল-আমিন এখনও বিছানায় প্রসাব করে। হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ৩য় জামাতে পড়ার জন্য আল-আমিনকে রাত-দিন হুজুরের জিম্মায় থাকতে হয়।

গত মাসের ২৬ তারিখ সন্ধ্যায় এলাকার কিছু কুচক্রী বাড়িতে এসে অভিযোগ করেন- সুরমা (২২) নামের এক মেয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে জনতা দেখে ফেলায় দৌড়ে বাড়িতে পালিয়েছে আল আমিন। তাদের কথামতো তাৎক্ষণিক আল-আমিনের খোঁজ করে তাকে মাদ্রাসায় সৈয়দ মাস্টারের কাছেই পাওয়া যায়।

জানা গেছে, ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একই থানাধীন ৯নং ওয়ার্ডের আ. বারেকের মেয়ে সুরমা বেগম অভিযোগ দায়ের করেন- বিয়ের প্রলোভনে আসামি মো. আল আমিন ওরফে নাঈম তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। বর্তমানে সে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মামলায় আল-আমিনের বয়স ২৫ বছর উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদ নিবন্ধন বহি নং-০১১ নিবন্ধন তারিখ-০১/০৪/১৭; যার ব্যক্তিগত পরিচিতি নং ২০১০০৯১২৫৭৬১০৪৩৯২। জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১০ (০১/০১/২০২০)। এ অনুসারে তার বয়স দাঁড়ায় ১০ বছর ৭ মাস ১৮ দিন।

আল-আমিন ওরফে নাঈমের বাবা বেলেন, আমার ছোট নাবালক ১০ বছর শিশুকে নিয়ে মিথ্যা সাজানো মামলায় হয়রানিপূর্বক সঠিক তদন্তসাপেক্ষে বিচার দাবি করছি।

আল-আমিন জানায়, সুরমাকে আমি চিনি না। আমার নামে অপবাদকারীদের বিচার চাই।

শিশু আল-আমিনের মা বলেন, মাদ্রাসায় বিছানায় প্রস্রাব করার কারণে তাকে বাড়িতে রাখা হয়। আর তার বিরুদ্ধে ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবি করছি।

দুলারহাট থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছি। ৩য় শ্রেণির নাবালক মো. আল-আমিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পেয়েছি। আসলে ১০ বছরের শিশুর সঙ্গে ২২ বছরের মেয়ের অবৈধ সম্পর্কের পর তিন মাসের অন্তঃ সত্ত্বা বিষয়টা হাস্যকর। আদালতে দায়েরকৃত মামলার পুনরায় সঠিক তদন্তের আলোকে প্রকৃত আসামিকে চিহ্নিত করে রিপোর্ট প্রদান করা হবে।