নারায়ণগঞ্জে এবার ১৮৫ বছরের ঐতিহ্য তাজিয়া মিছিল হয়নি

বাস আর ককশিটে তৈরি হয়েছিল তাজিয়ার আকার, রং-বেরঙের কাগজ মুড়িয়ে সেই তাজিয়ায় দেওয়া হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন রূপ। ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল ‘কারবালার ময়দানের অবয়ব’।

তবে, নারায়ণগঞ্জে গত ১৮৫ বছর ধরে নানা আয়োজনে মহররমে সেই ঐতিহ্য তাজিয়া মিছিল বের হয়নি আজ।

করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি আর সরকারি নির্দেশনায় ব্যাপকতায় এবার স্বল্প আকারে হবে সবকিছু। থাকছে না র‌্যালি, তাজিয়া মিছিলসহ দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি খেলা।

নানা বিধিনিষেধের মধ্যেই রবিবার আশুরা উপলক্ষে  ইমামবাড়ায় চলছে ঘুমহীন নানা কর্মযজ্ঞ।

শনিবার নগরীর বেশ কয়েকটি স্থানে গিয়ে এমন চিত্র চোখে পড়ে।

নগরীর উত্তর র‌্যালিবাগান এলাকার ইমাম বাড়া প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, বিশেষ পতাকায় রাস্তা সজ্জিত করা হয়েছে। ড্রাম ভর্তি মিষ্টি ও পানি নিয়ে পথচারীদের খাওয়াচ্ছেন তরুণেরা।

রাস্তার পাশেই মোমবাতি, আগর বাতি নিয়ে বসে আছেন কেউ কেউ। একটু সামনে এগোতেই বড় আকারের তাজিয়া বানাতে দেখা গেছে।

রঙ বেরঙের কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে তাজিয়াকে করতে দেখা গেছে দৃষ্টি নন্দন, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এগিয়ে দিয়ে ছোটরা করছে সহযোগিতা।

কারবালায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মৃত্যুর এই দিনটিকে মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের একটি দিন হিসেবে পালন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের মত, নারায়ণগঞ্জের র‌্যালি বাগান ও মেট্রোহল এলাকায় ১৮৩৫ সাল থেকে (১৮৫ বছর) পালিত হচ্ছে আশুরা।

এ বছর বিশ্ব মহামারি কভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে সরকার দিবসটি পালনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ দিয়েছে।

এর মধ্যে অন্যতম হল- আশুরা শোক র‌্যালি ‘তাজিয়া মিছিল’ না করা।

উত্তর রেলিবাগ এলাকার তাজিয়া মিছিল কমিটির সভাপতি মো. হোসেন দেশ রূপান্তর বলেন, আমরা শিয়া নই, কিন্তু বংশ পরম্পরায় ১৮৫ বছর ধরে প্রতি বছর আশুরা উপলক্ষে নগরীতে তাজিয়া মিছিল বের করে আসছি। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে প্রশাসন থেকে মিছিল বের হতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।  যেহেতু এটা আমাদের ঐতিহ্য, তাই তাজিয়া বানাচ্ছি। তবে, শুধু ইমাম বাড়াতেই রাখা হবে। ওই দিন দোয়া ও রোজাদারদের নিয়ে ইমাম বাড়ায় ইফতারের আয়োজন রয়েছে।’

অন্যদিকে, নগরীর মেট্রোহল এলাকায় প্রতি বছর তাজিয়া বানানো হলেও এ বছর তেমন কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়েনি। তবে, আশুরা উপলক্ষে খিচুড়ি রান্নার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।