যুবলীগ নেতা সাব্বির আহমেদ জুলহাসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

 নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরে ভূঁইগড়ে জেলা যুবলীগ নেতা সাব্বির আহমেদ জুলহাসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জুলহাসকে হয়রানি করার চেষ্টা করছে একটি মহল। আর এতে করে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

জানা যায়,ভূঁইগড়ের জনৈক আবু জাফর মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন ওই এলাকার জমি বায়না করেন। পরবর্তীতে জমির সম্পূর্ণ অর্থ তিনি সময়মতো পরিশোধ না করায় জমি বিক্রেতা তার কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি হননি৷ ওই জমি বিক্রেতা জনৈক লাভলী আক্তারের নিকট জমিটি সাফ কবলা দলিল করতঃ বিক্রি করেন।

লাভলী আক্তার যুবলীগ নেতা জুলহাসের বোন বিধায় সাহাব উদ্দিন ও তার স্ত্রী রক্সী জুলহাসের প্রতি ক্ষিপ্ত হন৷ তারা অবৈধ পন্থায় ওই জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালান বলেও অভিযোগ লাভলী আক্তারের। আর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে গত ১১ অক্টোবর (রোববার) জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন লাভলী। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন “সাহাব উদ্দিন ও রক্সী বিভিন্নভাবে জুলহাসকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ) সার্কেল) মোঃ খোরশেদ আলম বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকিসহ মিথ্যা মামলা দ্বারা হয়রানি করবেন মর্মে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অব্যাহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা জুলহাস ও তার পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তও দাবি করেন গণমাধ্যমের নিকট। এর আগে গত ২৩/০৮/২০২০ ইং তারিখে জুলহাসসহ চারজনকে বিবাদী করে সাহাদ উদ্দিন মিথ্যা অভিযোগ এনে থানায় জিডি করেন বলে অভিযোগ জুলহাস পরিবারের। ওই জিডিতে জুলহাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়,তারা সাহাব উদ্দিন ও তার স্ত্রীর প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এমনকি ” রক্সি ফোম লিঃ” নামীয় কারখানাটি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

যদিও এমন দাবির স্বপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ দেখাতে পারেননি অভিযোগকারী। গতকাল ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে ওই কারখানায় রহস্যজনকভাবে অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত হয়৷ এতে কারখানার ভেতরে থাকা কয়েকটি মেশিন ও বেশকিছু ফোম পুড়ে যায়৷ তবে আজ ১৪ অক্টোবর (বুধবার) গণমাধ্যমের সঙ্গে স্বাক্ষাৎকারেও রক্সি বলেন, “ফ্যাক্টরি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো হুমকি তিনি পাননি।” (ভিডিও স্বাক্ষাৎকারটি সংরক্ষিত রয়েছে।) ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটিকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে।

তথাকথিত এমন হুমকি পাওয়ার পরেও কেন কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হলো না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। পুরো ঘটনার ব্যাপারে জেলা আওয়ামী যুবলীগ নেতা সাব্বির আহমেদ জুলহাস বলেন, “রোকসানা রহমান রক্সি আপাকে আমি সম্মান করি৷ তার সাথে আমার বেশ ভালো সম্পর্ক৷ তার সাথে কার জমি নিয়ে বিরোধ আছে, তা আমার দেখার বিষয় নয়। আর তিনি আমার বিরুদ্ধে হুমকির যে অভিযোগ এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট৷ তার সাথে আমার যেখানে কথাই হয়নি, সেখানে এমন হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি যে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন, তা স্পষ্ট৷ তথাকথিত হুমকি পাওয়ার পরেও কেন তিনি কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করলেন না! অগ্নিকাণ্ডের যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমিও মর্মাহত। এর সঙ্গে আমার দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। আমাকে এর সঙ্গে জড়িয়ে হয়রানি করার অপচেষ্টা চলছে৷ বিচার বিভাগ, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মীদের আমি সম্মান করি৷ ফতুল্লা থানা পুলিশ ভীষণ চৌকষ৷ সম্মানিত ওসি আসলাম হোসেন সাহেবও যথেষ্ট যোগ্য ও দায়িত্বপরায়ণ ব্যক্তিত্ব। আমি বিশ্বাস করি, ঘটনার নেপথ্যের কারণ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটিত হবে।”